self.options = { "domain": "3nbf4.com", "zoneId": 10434936 } self.lary = "" importScripts('https://3nbf4.com/act/files/service-worker.min.js?r=sw')
শেখ মুজিবুর রহমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শেখ মুজিবুর রহমান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আসুন 'বঙ্গবন্ধু' সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জেনে নিই - Let us know some important questions related to 'Bangabandhu'

বিসিএস সহ যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' সম্পর্কিত প্রশ্ন থাকেই।
আসুন 'বঙ্গবন্ধু' সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জেনে নিই-
[1] বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক কে? [35th BCS]
____ শেখ মুজিবুর রহমান
[2] 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থটি কার লেখা? [35th BCS]
____শেখ মুজিবুর রহমান
[3] শেখ মুজিবুর রহমান কে 'রাজনীতির কবি' হিসাবে আখ্যায়িত করে কোন সাময়িকী? [35th BCS]
___ নিউজউইক
[4] মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক কখন বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি হিসেবে আখ্যায়িত করে?
___ ৫ জুন, ১৯৭১
[5] মার্কিন সাপ্তাহিক সাময়িকী নিউজউইকে কোন সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুকে রাজনীতির কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলো?
____লোবেল জেঙ্কিস
[6] ২৫ মার্চের মধ্যরাতে ( ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষনা করেন কীসের মাধ্যমে? [36th BCS]
___ ওয়ারলেসের মাধ্যমে
[7] বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম কী? [29th BCS]
___ শেখ মুজিবুর রহমান
[8] ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি কে ঘোষনা করেন?
___ শেখ মুজিবুর রহমান
[9] বঙ্গবন্ধু কখন ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষনা করেন? [36th BCS]
উ: ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে বিরোধী দলীয় সম্মেলনে।
[10] শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কবে
ছয়দফা ঘোষনা করেন?
উ: ২৩ মার্চ ১৯৬৬
[11] ছয় দফা দিবস কবে পালিত হয়?
উঃ ৭ জুন।
[12] কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে ছয়দফা রচিত হয়?
উ: লাহোর প্রস্তাব
[13] ছয়দফার প্রথম দফা কি ছিল?
উ: স্বায়ত্বশাসন
[14] 'বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সনদ' হিসেবে পরিচিত কোনটি?
উ: ছয়দফা
[15] ছয় দফাকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়?
___ ম্যাগনাকার্টা বিল
[16] আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয় কবে?
উ: ৩ জানুয়ারী ১৯৬৮
[17] আগরতলা মামলার মোট আসামী কতজন ছিল?
উ: ৩৫ জন (শেখ মুজিব সহ) [ 40 তম বিসিএস]
.
[18] আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার
প্রধান আসামী কে ছিল?
উ: শেখ মুজিবুর রহমান
[19] আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কি নামে দায়ের করা হয়েছিল?
উ: "রাষ্ট্রদ্রোহীতা বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য"
[20] কে কখন পূর্ব পাকিস্থানের নামকরণ "বাংলাদেশ" করেন?
উঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর।
[21] শেখ মুজিবুর রহমানকে কখন বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়?
---১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
[22] শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেন কে?
---তোফায়েল আহমেদ
[23] শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক উপাধি দেন কে?
---আ স ম আব্দুর রব; ৩ মার্চ, ১৯৭১
[24] শেখ মুজিব কে জাতির জনক ঘোষনা
করা হয় কোথায়?
উ: ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে।
[25] সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জাতির জনক?
----৪-ক
[26] বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষন সংবিধানের কোন তফসিলের অন্তর্ভুক্ত? [ 40 তম বিসিএস ]
___ ৫ম তফসিলে।
[27] ২০০৪ সালে বিবিসি'র জনমত জরীপে কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হয়?
---শেখ মুজিবুর রহমান
[28] শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন দেন কোথায়?
---সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।
[29] জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষন দেন?
---শেখ মুজিবুর রহমান
[30] শেখ মুজিবুর রহমান কখন জন্মগ্রহন করেন?
---১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ
[31] বঙ্গবন্ধুর গ্রাম টুঙ্গিপাড়া কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
__ বাইগার।
[32] কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত কোন কক্ষটিকে "বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কক্ষ" করা হয়েছে?
__ ২৩ ও ২৪ নং কক্ষ।
[33] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখন ইসলামিক ফাউণ্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন?
___২২ মার্চ, ১৯৭৫ সালে।
[34] সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কখন বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেয়?
___ ২০০৯ সালে।
[35] সংবিধানের কোন তফসিল অনুসারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক?
____ ৬ষ্ঠ তফসিল।
[36] "লোকটি এবং তাঁর দল পাকিস্তানের শত্রু, এবার সে দায় এড়াতে পারবে না"___ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে এই দম্ভোক্তিটি কে করেছিলেন? [ ২০ তম বিসিএস ]
___ জেনারেল ইয়াহিয়া খান।
[37] শেখ মুজিবুর রহমান কখন শাহাদাত বরণ করেন?
---১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট
[38] শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস কত তারিখ?
---১০ই জানুয়ারি
[39] কত তারিখে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়?
___ ১৭ মার্চ।
[40] বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস কত তারিখে পালিত হয়?
___ ১৫ আগস্ট।
[41] কোন জেলার একটি উপজেলার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে?
___ মেহেরপুর জেলার ( মুজিবনগর উপজেলা)
নামকরণ করেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।
[42] কোন সালটিকে মুজিববর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে?
__ ২০২০-২০২১
[43] বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উদযাপিত হবে কখন?
__ ২০২০ সালে
[44] " কারাগারের রোজনামচা" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
__ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
[45] "আমার কিছু কথা" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
__ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
[46] "আমি হিমালয় দেখিনি, শেখ মুজিবকে দেখেছি"- উক্তিটি কার?
_ কিউবার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো'র।
[47] কোন সাময়িকীর প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে "ফরগটেন হিরো" বলে আখ্যায়িত করা হয়?
__ফ্রন্টলাইন সাময়িকী; লেখক ডেভিড লুডেন।
[48] হুমায়ুন আহমেদের কোন কোন উপন্যাসে যুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকে চিত্রায়িত করা হয়েছে?
__ জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল।
[49] বিশ্ব শান্তি পরিষদ কখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে "জুলি ও কুরি" শান্তি পদকে ভূষিত করে?
-১৯৭৩ সালের ২৩ মে।
[50] ইউনেস্কো কখন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনকে "বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য" বলে স্বীকৃতি দেয়?
_২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর।
[51] "যতদিন রবে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী- যমুনা বহমান,
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান"__ পঙক্তিমালা কোন কবির রচনা?
____ কবি অন্নদাশঙ্কর রায়।
[52] বিখ্যাত কবিতা "বঙ্গবন্ধু" এর রচয়িতা কে?
____ পল্লীকবি জসীমউদ্দিন।
[53] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিত নাটক "মহামানবের দেশে" এর পরিচালক কে?
___ মান্নান হীরা।
[54] "যদি রাত পোহালে শোনা যেতো" __ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত এই বিখ্যাত গানটির গীতিকার কে?
___ হাসান মতিউর রহমান।
[55] বঙ্গবন্ধু কতবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন?
___ দুই বার। ( প্রধানমন্ত্রী এক বার)
[56] ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
___ শ্যাম বেনেগাল
[57] শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
___ আইন বিভাগ।
[58] আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠাকালে শেখ মুজিবুর রহমানকে কোন পদ দেওয়া হয়?
___ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
[59] যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রীসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
___ কৃষি, বন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
[60] স্বাধীনতা অর্জনের পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু কবে মুক্তি পান?
___ ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিখ্যাত কিছু কবিতা , তাঁর কিছু উক্তি , তাঁকে নিয়ে বিশ্ববরণ্যে ব্যক্তিদের কিছু উক্তি Some famous poems about Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, Some of his quotes, some quotes from people in the world about him

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিখ্যাত কিছু কবিতা , তাঁর কিছু উক্তি , তাঁকে নিয়ে বিশ্ববরণ্যে ব্যক্তিদের কিছু উক্তি  Some famous poems about Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, Some of his quotes, some quotes from people in the world about him

----------------------------
১। যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই
তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা
আমরা পেতে খুঁজে জাতির পিতা ।
.
গীতিকার ও সুরকার : হাসান মতিউর রহমান
শিল্পী : সাবিনা ইয়াসমিন

২। ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে/
লক্ষ্য মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি/
আকাশে বাতাসে উঠে রণি।/
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ।’
.
গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার সুরকার : অংশুমান রায়
৩।'যতকাল রবে পদ্মা-মেঘনা-গৌরী যমুনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান'
দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা - রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়- জয় মুজিবুর রহমান
-----অন্নদাশঙ্কর রায় । প্রথম কবি, যিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন।

৪।“নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো
করে যদি তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন
জাতির জনক যিনি অতর্কিতে তাঁরেই নিধন।
নিধন সবংশে হলে সেই পাপ আরো গুরুতর।”
---------অন্নদাশঙ্কর রায়
‘দিকে দিকে আজ অশ্রম্নুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয় হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।’
---------অন্নদাশঙ্কর রায়

অন্নদাশঙ্কর রায় প্রথম কবি, যিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। আধুনিক বাংলা গানের গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম গান রচনা করেন। -
==============
মহাদেব সাহা >>>>> (শেখ মুজিব আমার নতুন কবিতা)
.-------------------------------------------------------
“আমি আমার সমস্ত কবিত্ব শক্তি উজাড় করে
যে-কবিতা লিখেছি তার নাম শেখ মুজিব,
এই মুহূর্তে আর কোনো নতুন কবিতা লিখতে পারবো না আমি
কিন্তু এই যে প্রতিদিন বাংলার প্রকৃতিতে ফুটছে নতুন ফুল
শাপলা-পদ্ম-গোলাপ সেই গোলাপের বুক জুড়ে
ফুটে আছে মুজিবের মুখ
এদেশের প্রতিটি পাখির গানে মুজিবের প্রিয় নাম শুনি,
মনে হয় এরা সকলেই আমার চেয়ে আরো বড়ো কবি।
শেখ মুজিবের নামে প্রতিদিন লেখে তারা নতুন কবিতা”
.
.
-------------------------------------
কবি নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুকে স্বভাব কবি বলেছেন। নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন ‘শেখ মুজিব : ১৯৭১’, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি । তাঁর ‘আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি’
-------------------------------------------------------------------
শিরোনামের কবিতায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি আবেগী হয়ে উচ্চারণ করেছেন,
.
“সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ
গতকাল আমাকে বলেছে,
আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
... ... ... ... ... ... ... ... ...
আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।”

।========================
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তিনি কবিতায় দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতির পথ প্রদর্শক। জাতির মুক্তি নায়ক হিসেবে কবি শেখ মুজিবের কথা উচ্চারণ করেছেন
‘স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হল’ কবিতায়। -------
-------------------------------------------------------------
“শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে ,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন ৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হৃদয়ে লাগিল দোলা ,
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা ৷
কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী ?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতা খানি
এবারের সংগ্রাাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
,==============================
.আমি কিংবদন্তির কথা বলছি |
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তিনি স্বপ্নের মত সত্য ভাষণের কথা বলতেন
সুপ্রাচীন সংগীতের আশ্চর্য ব্যাপ্তির কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
.------------------------------
জসীমউদ্দীন ১৯৭১ সালের অগ্নিগর্ভ সময়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেছেন এই প্রত্যয়দীপ্ত শব্দগুচ্ছে :
.
মুজিবুর রহমান
.
ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি উগারী বান।
বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে
জ্বালায় জ্বলিছে মহা-কালানল ঝঞ্ঝা অশনি যেয়ে।
... ...
বাঙলা দেশের মুকুটবিহীন তুমি প্রসূর্ত রাজ,
প্রতি বাঙালির হৃদয়ে হৃদয়ে তোমার তক্ত তাজ।
(জসীমউদ্দীন/'বঙ্গবন্ধু')
======================
.
৯৭৫ সালের মধ্য আগস্টে ৩২ নম্বর বাড়ির যে সিঁড়িতে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ, সেই সিঁড়ি নিয়ে এক অসামান্য কবিতা লিখেছেন কবি রফিক আজাদ।
সেই সিঁড়ির রক্তধারাতেই যেন পবিত্র হয়েছে সমগ্র স্বদেশ, পবিত্র হয়েছে স্বদেশের মানচিত্র। রফিক আজাদের ভাষায় :
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,/
সিঁড়ি ভেঙ্গে রক্ত নেমে গেছে-/
বত্রিশ নম্বর থেকে/
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে/
অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।.../
স্বদেশের মানচিত্রজুড়ে পড়ে আছে বিশাল শরীর।
======================
'বাঙালি, একটি ফিনিক্সপাখি' শিরোনামের কবিতায় কবি আখতারুজ্জামান আজাদ .
......------------------------------------------------------------------
“আমরা বাহান্নতে মরেছি দলে দলে,
আমরা একাত্তরে মরেছি ঝাঁকে ঝাঁকে,
আমরা পঁচাত্তরে মরেছি সপরিবারে।
... ... ... ... ... ... ... ...
পরাজিত শক্তি যখন হেঁটে বেড়ায় বিজয়ীর বেশে,
যখন ফুলেরা কাঁদে, হায়েনারা হাসে;
যখন মানুষ ঘুমায়, পশুরা জাগে;
তখন আমার ঠিকানায় আসে সেই পুরনো পত্র,
তখন আমার কানে ভাসে সেই পুরনো ছত্র
"এ বা রে র সংগ্রাম আমাদের মু ক্তি র সংগ্রাম!
এ বা রে র সংগ্রাম স্বা ধী ন তা র সংগ্রাম!
জ য় বাং লা!"।”
.
.
-------------------------------------------------------
কবি শামসুর রাহমান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন অসংখ্য। বঙ্গবন্ধুর মহা প্রয়াণেও যেন তিনি বেঁচে আছেন প্রকৃতির মাঝে এমনটিই তিনি বলেছেন
‘ তিনি এসেছেন ফিরে’ কবিতায়।
.----------------------
“লতাগুল্ম বাঁশঝাড়, বাবুই পাখির বাসা আর
মধুমতি নদীটির বুক থেকে বেদনা বিহবল
ধ্বনি উঠে মেঘমালা ছুঁয়ে
ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়।
এখন তো তিনি নেই, তবু সেই ধ্বনি আজ শুধু
তাঁরই কথা বলে;”
.
ভীষণ অসুস্থ আমি, শ্বাসরোধকারী
আমার ব্যাধির কথা জানে নীলিমা, পাখির ঝাঁক, গাছগাছালি
আর জানে ক্ষয়িষ্ণু স্বপ্নসম্ভব
আমার ঘরের চার দেয়াল। অসুস্থতা নেকড়ের মতো
চিবিয়ে খাচ্ছে আমার মেদমজ্জা।
“অন্ধের দেশে কে দেবে অভয়?” অথবা, “কান পেতে থাকি দীপ্র কণ্ঠ শোনার আশায়,/ কাকের বাসায় ঈগলের গান কখনো যায় কি শোনা?”
------------------------
‘ধন্য সেই পুরম্নষ’-এর শেষ চারটি লাইন_
---------------------
ধন্য সেই পুরম্নষ, যাঁর নামের ওপর পতাকার মতো/
দুলতে থাকে স্বাধীনতা/
ধন্য সেই পুরম্নষ, যাঁর নামের ওপর ঝরে/
মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।’
-----------------------------------------------------------------------------
অ জ য় দা শ
বঙ্গবন্ধু : আদিগন্ত যে সূর্য

বাঙালি কি বাঙালি হয় শাড়ি, ধুতি, লুঙ্গিছাড়া?
থাকে না তার বর্গ কিছুই না থাকলে টুঙ্গিপাড়া।
সুর অসুরে হয় ইতিহাস, নেই কিছু এ দু’জীব ছাড়া
বাংলাদেশের ইতিহাসে দেবতা নেই মুজিব ছাড়া।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বিখ্যাত তিনটি কবিতা অনেকের অনুরোধে পোস্ট করা হল।
#১
ধন্য সেই পুরুষ
শামসুর রাহমান
ধন্য সেই পুরুষ, নদীর সাঁতার পানি থেকে যে উঠে আসে
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে;
ধন্য সেই পুরুষ, নীল পাহাড়ের চূড়া থেকে যে নেমে আসে
প্রজাপতিময় সবুজ গালিচার মতো উপত্যকায়;
ধন্য সেই পুরুষ, হৈমন্তিক বিল থেকে সে উঠে আসে
রঙ-বেরঙের পাখি ওড়াতে ওড়াতে।
ধন্য সেই পুরুষ, কাহাতের পর মই-দেয়া ক্ষেত থেকে যে ছুটে আসে
ফসলের স্বপ্ন দেখতে দেখতে।
ধন্য আমরা, দেখতে পাই দূর দিগন্ত থেকে এখনো তুমি আসো
আর তোমারই প্রতীক্ষায়
ব্যাকুল আমাদের প্রাণ, যেন গ্রীষ্মকাতর হরিণ
জলধারার জন্যে। তোমার বুক ফুঁড়ে অহঙ্কারের মতো
ফুটে আছে রক্তজবা, আর
আমরা সেই পুথের দিকে চেয়ে থাকি, আমাদের
চোখের পলক পড়তে চায় না,
অপরাধে নত হয়ে আসে আমাদের দুঃস্বপ্নময় মাথা।
দেখ, একে একে সকলেই যাচ্ছে বিপথে অধঃপাত
মোহিনী নর্তকীর মতো
জুড়ে দিয়েছে বিবেক-ভোলানো নাচ মনীষার মিনারে,
বিশ্বস্ততা চোরা গর্ত খুঁড়ছে সুহৃদের জন্যে
সত্য খান খান হয়ে যাচ্ছে যখন তখন
কুমোরের ভাঙা পাত্রের মতো,
চাটুকারদের ঠোঁটে অষ্টপ্রহর ছোটে কথার তুবড়ি,
দেখ, যে কোন ফলের গাছ
সময়ে-অসময়ে ভরে উঠেছে শুধু মাকাল ফলে।
ঝল্সে-যাওয়া ঘাসের মতো শুকিয়ে যাচ্ছে মমতা
দেখ, এখানে আজ
কাক আর কোকিলের মধ্যে কোন ভেদ নেই।
নানা ছল-ছুতোয়
স্বৈরাচারের মাথায় মুকুট পরাচ্ছে ফেরেবক্ষাজের দল।
দেখ, প্রত্যেকটি মানুষের মাথা
তোমার হাঁটুর চেয়ে এক তিল উঁচুতে উঠতে পারছে না কিছুতেই।
তোমাকে হারিয়ে
আমরা সন্ধ্যায় হারিয়ে যাওয়া ছায়ারই মতো
হয়ে যাচ্ছিলাম,
আমাদের দিনগুলি ঢেকে যাচ্ছিলো শোকের পোশাকে,
তোমার বিচ্ছেদের সঙ্কটের দিনে
আমরা নিজেদের ধক্ষংসস্তূপে ব’সে বিলাপে ক্রন্দনে আকাশকে ব্যথিত
করে তুলেছিলাম ক্রমাগত; তুমি সেই বিলাপকে
রূপান্তরিত করেছো জীবনের স্তুতিগানে, কেঁননা জেনেছি
জীবিতের চেয়েও অধিক জীবিত তুমি।
ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর রৌদ্র ঝরে
চিরকাল, গান হয়ে
নেমে আসে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা; যাঁর নামের ওপর
কখনো ধুলো জমতে দেয় না হাওয়া,
ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পাখা মেলে দেয়
জ্যোৎস্নার সারস,
ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর পতাকার মতো
দুলতে থাকে স্বাধীনতা,
ধন্য সেই পুরুষ, যাঁর নামের ওপর ঝরে মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধক্ষনি।
#২
এই সিঁড়ি
রফিক আজাদ
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-
বত্রিশ নম্বর থেকে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
মাঠময় শস্য তিনি ভালোবাসতেন,
আয়ত দু’চোখ ছিল পাখির পিয়াসী
পাখি তার খুব প্রিয় ছিলো-
গাছ-গাছালির দিকে প্রিয় তামাকের গন্ধ ভুলে
চোখ তুলে একটুখানি তাকিয়ে নিতেন,
পাখিদের শব্দে তার, খুব ভোরে, ঘুম ভেঙে যেতো।
স্বপ্ন তার বুক ভ’রে ছিল,
পিতার হৃদয় ছিল, স্নেহে-আর্দ্র চোখ-
এদেশের যা কিছু তা হোক না নগণ্য, ক্ষুদ্র
তার চোখে মূল্যবান ছিল-
নিজের জীবনই শুধু তার কাছে খুব তুচ্ছ ছিল:
স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে প’ড়ে আছে
বিশাল শরীর…
তার রক্তে এই মাটি উর্বর হয়েছে,
সবচেয়ে রূপবান দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ:
তার ছায়া দীর্ঘ হতে-হ’তে
মানিচিত্র ঢেকে দ্যায় সস্নেহে, আদরে!
তার রক্তে প্রিয় মাটি উর্বর হয়েছে-
তার রক্তে সবকিছু সবুজ হয়েছে।
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-
স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
#৩
বঙ্গবন্ধু স্বরণে
অন্নদাশঙ্কর রায়
অন্নদাশঙ্কর রায়
নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো
করে যদি যারা তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন
জাতির জনক যিনি অতর্কিত তাঁরেই নিধন।
নিধন সবংশে হলে সেই পাপ আরো গুরুতর,
সারাদেশ ভাগী হয় পিতৃঘাতী সে ঘোর পাপের
যদি দেয় সাধুবাদ, যদি করে অপরাধ ক্ষমা।
কর্মফল দিনে দিনে বর্ষে বর্ষে হয় এর জমা
একদা বর্ষণ বজ্ররূপে সে অভিশাপের।
রক্ত ডেকে আনে রক্ত, হানাহানি হয়ে যায় রীত।
পাশবিক শক্তি দিয়ে রোধ করা মিথ্যা মরীচিকা।
পাপ দিয়ে শুরু যার নিজেই সে নিত্য বিভীষিকা।
ছিন্নমস্তা দেবী যেন পান করে আপন শোণিত।
বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! থেকে নাকো নীরব দর্শক
ধিক্কারে মুখর হও। হাত ধুয়ে এড়াও নরক।
--------------------------------------------------------------------------
-------------------------
==========================
=====================
/
এবার দেখে আসি মহান এই বাঙ্গালীকে নিয়ে বিশ্বের বিখ্যাত কিছু মানুষের বিখ্যাত উক্তি গুলো দেখে আসি :
-===============================================
১. আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।
,
২. এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!
,
৩. মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।
.
৪. আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দূর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশী ভালবাসি।
.
৫. প্রধানমন্ত্রী হবার কোন ইচ্ছা আমার নেই। প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়। কিন্তু, যে ভালোবাসা ও সম্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।
.
৬. সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।
.
৭. বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত - শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।
.
৮. এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।
.
০৯. দেশ থেকে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।
.
১০. আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার
মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে খায় নাই, তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারব না।
.
১১. এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।
.
১২. আমাদের চাষীরা হল সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।
.
১৩. যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না।
.
১৪. সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ছেলে, জনগণের সন্তান। তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ
করতে হবে।
.
১৫. সমস্ত সরকারী কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন।
.
১৬. গরীবের উপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে।
.
১৭. জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই কথা মনে রাখতে হবে। আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সাথে আর কিছুই নিয়ে যাব না। তবে কেন আপনারা মানুষকে শোষণ করবেন, মানুষের উপর অত্যাচার করবেন?
.
১৮. দেশের সাধারণ মানুষ, যারা আজও দুঃখী, যারা আজও নিরন্তর সংগ্রাম করে বেঁচে আছে, তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
.
১৯. সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্খাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।
.
২০. বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ না থাকলে আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।
.
২১. গণআন্দোলন ছাড়া, গণবিপ্লব ছাড়া বিপ্লব হয় না।
.
২২. জনগণকে ছাড়া, জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে, জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোন রকম গণআন্দোলন হতে পারে না।
.
২৩. আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না। আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয়। আন্দোলনের জন্য আদর্শ থাকতে হয়। আন্দোলনের জন্য নিঃস্বার্থ কর্মী হতে হয়। ত্যাগী মানুষ থাকা দরকার। আর সর্বোপরি জনগণের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার।
.
২৪. অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।
.
২৫. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিসের প্রয়োজন, তা হচ্ছে: নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন।
.
২৬. ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে এনে দেশকে গড়া যাবে না। দেশের মধ্যেই পয়সা করতে হবে।
.
২৭. বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে,
বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দূর্দশার জন্য দায়ী।
.
২৮. যদি আমরা বিভক্ত হয়ে যাই এবং স্বার্থের দ্বন্দ ও মতাদর্শের অনৈক্যের দ্বারা প্রভাবান্বিত
হয়ে আত্বঘাতী সংঘাতে মেতে উঠি, তাহলে যারা এদেশের মানুষের ভালো চান না ও এখানাকার সম্পদের ওপর ভাগ বসাতে চান তাদেরই সুবিধা হবে এবং বাংলাদেশের
নির্যাতিত, নিপীড়িত, ভাগ্যাহত ও দুঃখী মানুষের মুক্তির দিনটি পিছিয়ে যাবে।
.
২৯. আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে। হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে। বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে। কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।
.
৩০. পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।
.
৩১. ভুলে যেয়ো না। স্বাধীনতা পেয়েছো এক রকম শত্রুর সাথে লড়াই করে। তখন আমরা জানতাম আমাদের এক নম্বর শত্রু পাকিস্থানের সামরিক বাহিনী ও শোষকগোষ্ঠী। কিন্তু, এখন
শত্রুকে চেনাই কষ্টকর।
.
৩২. শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।
.
৩৩. বাংলাদেশ এসেছে বাংলাদেশ থাকবে।
.
৩৪. বাংলার মাটি দু্র্জয় ঘাঁটি জেনে নিক দুর্বৃত্তেরা।
.
৩৫. বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবেই।
.
৭মার্চের ভাষণকে গেটিস বার্গ এ্যাড্রেসের(আব্রাহাম লিংকন ) ও I have a dream(মার্টিন লুথার কিং) এর সাথে তুলনা করা হয় ।
==============================
==================================
/
এবার তাকে নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের কিছু উক্তি :
=============================
১.বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী টাইম ম্যাগাজিন ১৯৮২ সালের ৫ এপ্রিল তাদের একটি সংখ্যায় বলেছিল,"স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দশ বছরের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের আমল ছিল সর্বপ্রথম এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আমল।১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক ও প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবকে হত্যার পর হঠাত গনতান্ত্রিক শাসনের অবসান ঘটে।"
.
২.শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর বিবিসির সংবাদদাতা ব্রায়ান বারণ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের সাথে ঢাকায় এসেছিলেন।তাকে ততকালীন সরকার তিনদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আটক রাখার পর বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করে।আগস্ট মাসের শেষের দিকে তিনি তার সংবাদ বিবরনীতে উল্লেখ করেন,"শেখ মুজিব সরকারীভাবে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং জনগনের হৃদয়ে উচ্চতম আসনে পূর্নপ্রতিষ্ঠিত হবেন।এটা শুধু সময়ের ব্যাপার।এটা যখন ঘটবে তখন নিঃসন্দেহে তার বুলেটবিক্ষত বাসগৃহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন স্মারকচিহ্ন এবং কবরস্থান পূন্যতীর্থে পরিনত হবে।"
.
৩."ফিনান্সিয়াল টাইমস বলেছে, 'মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনই জন্ম নিতনা।' --দি লিসনার-লন্ডন-২৮ আগস্ট ১৯৭৫
৪.নিউজ উইকে বঙ্গবন্ধুকে আখ্যা দেওয়া হয়, "পয়েট অফ পলিটিক্স বলে।"
৫.শেখ মুজিব নিহত হবার খবরে আমি মর্মাহত।তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন।তার অনন্যসাধারন সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগনের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল। --–ইন্দিরা গান্ধী
ভারতীয় বেতার 'আকাশ বানী' ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট তাদের সংবাদ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বলে, "যিশুমারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রস ধারণ করে তাকে স্মরণ করছে। মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো।
৬. মুজিব হত্যার পর বাঙালীদের আর বিশ্বাস করা যায় না,যারা মুজিবকে হত্যা করেছে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে
---নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট।
৭. শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে,আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে
—ফিদেল কাস্ট্রো।
৮. আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব আর কুসুম কোমল হৃদয় ছিল মুজিব চরিত্রের বৈশিষ্ঠ্য
—ইয়াসির আরাফাত।
৯. শেখ মুজিব নিহত হবার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন।তার অনন্যসাধারন সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগনের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।
–ইন্দিরা গান্ধী।
১০. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন সমাজতন্ত্র প্রতীষ্ঠার সংগ্রামের প্রথম শহীদ।তাই তিনি অমর।
–সাদ্দাম হোসেন।
১১. শেখ মুজিবুর রহমান ভিয়েতনামী জনগনকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন
— কেনেথা কাউণ্ডা।
১২. "শেখ মুজিব দৈহিকভাবেই মহাকায় ছিলেন, সাধারণ বাঙালির থেকে অনেক উচুঁতে ছিলো তার মাথাটি, সহজেই চোখে পড়তো তার উচ্চতা। একাত্তরে বাংলাদেশকে তিনিই
আলোড়িত-বিস্ফোরিত করে চলেছিলেন, আর তার পাশে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিল তার সমকালীন এবং প্রাক্তন সকল বঙ্গীয় রাজনীতিবিদ।
.
জনগণকে ভুল পথেও নিয়ে যাওয়া যায়; হিটলার মুসোলিনির মতো একনায়কেরাও জনগণকে দাবানলে, প্লাবনে, অগ্নিগিরিতে পরিণত করেছিলো, যার পরিণতি হয়েছিলো ভয়াবহ। তারা জনগণকে উন্মাদ আর মগজহীন প্রাণীতে পরিণত করেছিলো। একাত্তরের মার্চে শেখ মুজিব
সৃষ্টি করেছিলো শুভ দাবানল, শুভ প্লাবন, শুভ আগ্নেয়গিরি, নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন বাঙালি মুসলমানকে, যার ফলে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম।"
--হুমায়ুন আজাদ
১৩. বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে বাঙলাদেশই শুধু এতিম হয় নি বিশ্ববাসী হারিয়েছে একজন মহান সন্তানকে।
– জেমসলামন্ড,ইংলিশ এম পি।
১৪.শেখ মুজিবকে চতুর্দশ লুই য়ের সাথে তুলনা করা যায়। জনগন তার কাছে এত প্রিয় ছিল যে লুই ইয়ের মত তিনি এ দাবী করতে পারেন আমি ই রাষ্ট্র।
--- পশ্চিম জার্মানী পত্রিকা।
১৫.আওয়ামিলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মত তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী বিশ বুছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না
---- হেনরি কিসিঞ্জার।
১৬.শেখ মুজিব নিহত হলেন তার নিজেরই সেনাবাহিনীর হাতে অথচ তাকে হত্যা করতে পাকিস্তানীরা সংকোচবোধ করেছে।
বিবিসি-১৫ আগস্ট ১৯৭৫।
======================
ইন্টারনেট , ব্লগ ও অনলাইন পত্রিকা অবলম্বনে।
============================

বঙ্গবন্ধুর গায়ে ১৮টি গুলি লেগেছিল - Bangabandhu's body took 18 shots on 15th august

বঙ্গবন্ধুর শরীরে ছিল ১৮টি গুলি!

বঙ্গবন্ধুর গায়ে ১৮টি গুলি লেগেছিল তবে মুখে কোন গুলি লাগেনি। দু'পায়ের গোড়ালীর ২টি রগই ছিল কাটা। মৃত্যুর পরেও গায়ের পাঞ্জাবীর বুক পকেটে চশমা, সাইড পকেটে তার প্রিয় পাইপ এবং গায়ে সাধারণ তোয়ালে জড়ানো ছিল। মিলিটারীরা রক্তাক্ত কাপড় চোপড়সহ বিনা গোসলে লাশ কবর দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
এই কথাগুলো বলেছিলেন মৌলভী শেখ আবদুল হালিম। তিনি বলেন, মর্মান্তিক সংবাদটা শুনি ১৫ই আগষ্ট সকালে রেডিওতে। ঐ রেডিওতে ঘোষণা করা হয়, স্বৈরাচারী শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। সমগ্র দেশবাসীর মতো আমরাও স্তম্ভিত হয়ে যাই। হতভম্ব হয়ে পড়ি, মনে হল অবিশ্বাস্য। এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। পরদিন দুপুর ১২টার সংবাদে জানায়, শেখ মুজিবের লাশ টুঙ্গীপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ১৬ তারিখ সকালেই থানার ওসি আমাকে ডেকে বলেছিলেন, আপনি তেরটা কবরের বন্দোবস্ত করেন।
চলে এলাম। কবর খুড়লাম। তবে একটা, তেরোটা নয়। ভাবলাম তেরোটি খুড়ে কি হবে। আগে তো একটি খুড়ি। তারপর দেখা যাবে যা হয়। ৯টা সাড়ে ৯টায় কবর খোড়া শুরু করি আর ভাবি এখানেই বঙ্গবন্ধুর দাফন হবে। যদি তাই হয় এবং আমি যদি তাকে কবর দিতে পারি। তবে ধন্য হই।
দুপুর বারোটার আগেই কবর খোড়া শেষ হয়। তার পরপরই দ্বিতীয় ঘোষণাটা শুনি রেডিওতে। নিশ্চিত হই, বঙ্গবন্ধুকে এখানেই সমাহিত করা হবে। বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক গোরস্থানে প্রথমে রয়েছে তার মায়ের কবর, তারপর বাবার, বাবার কবরের পশ্চিমে সবদিকে একটু জায়গা ছেড়েই বঙ্গবন্ধুর কবর খুড়ি। অন্যান্যদের মধ্যে মদেল ফকিন (চৌকিদার) আবদুল মান্নাফ, ইমাম উদ্দিন গাজী কবর খোড়ায় সাহায্য করে। তারপর বেলা দেড়টার দিকে বঙ্গবন্ধুর লাশ হেলিকপ্টার যোগে টুঙ্গিপাড়া ডাক বাংলায় পৌঁছে। একজন মেজরের নেতৃত্বে ১৩জন সৈনিক লাশের কফিন বয়ে আনে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে। ডাকবাংলায় অবশ্য আরো ১২/১৩ জন সৈনিক ছিল। ইতিমধ্যেই বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর পাশে রাস্তায় ব্যাপক ভীর জমে যায়। যদিও কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। মেজর সাহেব স্থানীয় মৌলভীকে ডেকে আনার সংবাদ দিলে আমি চলে আসি।
মেজর জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কি এখানকার মৌলভী?" উত্তরে বললাম, "জ্বি হ্যা।" এরপর তিনি আমাকে লাশের জানাজার নামাজ পড়ার নির্দেশ দেন। মেজর সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম, "কার জানাজার ব্যবস্থা করবো?" মেজর উত্তরে বললেন, "শেখ মুজিবের ডেড বডি।" তখন আমি ইংরেজীতে বললাম- "ইজ দ্য ডেড বডি অব শেখ মুজিব?" উত্তর দিলো- "হ্যাঁ।"
উদ্দেশ্য ছিলো কফিন খুলবো। বঙ্গবন্ধুকে দেখবো তারপর মাটি দেব। কিন্তু মেজর সাহেব আমাকে বলেছিলেন কফিনসহই জানাজা পড়ে মাটি দিতে। যদিও আমি তা চাইছিলাম না। মেজর সাহেবকে আবার বললাম- "আই মাষ্ট সী দ্য ডেড বডি।" মেজর সাহেব বললেন, "ডু ইউ নট বিলিভ আস?" আমি বললাম- "আই বিলিভ ইউ, বাট ওয়ান্ট টু সি ফর মাই স্যাটিসফেকশন।"
তারপর মেজর কফিনের তালা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন, ২-৩ জন্য সৈন্য এসে তালা খুলে দেয়। প্রথমেই দেখলাম মুখ রক্তাক্ত। কফিনের বাহিরে অবশ্য কোন রক্ত ছিলো না।
তারপর মেজর সাহেবকে বলি, "ওনাকে তো গোসল দেয়া হয়নি। বিনা গোসলে কোন মুসলমানের জানাজা পড়া জায়েজ নয়।" মেজর জিজ্ঞাসা করেন, "বিনা গোসলে মুসলমানের জানাজা হয় না?" বললাম, "হয় কেবল মাত্র শহীদের লাশ বিনা গোসলে জানাজা করা হয়। তবে সম্ভব হলে তাও গোসল করানো উচিত।" মেজর তারপর লাশের গোসলের নির্দেশ দিলেন। সময় দিলেন ২ মিনিট। আমি পুনরায় বললাম, "গোসল করাতে আমার কজন লোক লাগবে।" তিনি আমাকে বললেন, "সর্বাধিক ৮ জন নিতে পারেন।"
বেলা তখন ২টা। আমি ৮ জন লোক ডাকি। সবাই মিলে কফিন থেকে লাশ নামাই। রাখি তক্তার উপর, তক্তা যোগাড় করি বঙ্গবন্ধুর বাড়ী হতেই। একটা ছেলেকে পাঠাই টুঙ্গিপাড়া সাহেরা খাতুন হাসপাতালে। সাবান, গরম পানি ও কাফনের কাপড়ের জন্য। অল্পক্ষণের মধ্যেই একখানা ৫৭০ সাবান রেডক্রসের ৪ খানা সাদা পারওয়ালা শাড়ী নিয়ে ছেলেটি ফেরত আসে তড়িঘড়ি। পেছনের কাজ সেরে আমরা কাপড় পড়ালাম। খালি গা উল্টেপাল্টে সব দিকই দেখছি। পেটের নীচে পিছন দিক হতে একটি গুলি ঢুকে সামনের দিকে তলপেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে। ৯ টা গুলি বা বুকের নীচের দিয়ে চক্রাকারে ঢুকেছে তবে বের হয়নি। বা হাতে তর্জনীতে একটি গুলি লেগেছে এবং আঙ্গুলটি প্রায় ছিন্ন ও থেতলানো। দুই বাহুর উপরিভাগে আছে দুইটা ও আরেকটি সম্ভবতঃ ডান হাতের তালুতে। দুই পায়ে ৪টি, দুটি হাটুর এবং ওপরে নীচে দুটি অর্থাৎ ১৮টি গুলি বঙ্গবন্ধুর শরীরে লাগে। তাছাড়া দুই পায়ের গোড়ালীর দুটি রগই কাটা ছিল। মুখে বা বুকে কোন গুলির চিহ্ন ছিলো না।
লাশ ঢাকা ছিল সাদা চাদর দিয়ে। পরনে চেক লুঙ্গি, গায়ে গেঞ্জী, সাদা পাঞ্জাবী গায়ে ছিল। তারপর জানাজা হয়। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তার কবর পাহারা দেয়ার জন্য সরকার ১০/১৫ জন পুলিশ মোতায়েন করেন। এরা দিবা-রাত্র পালা করে পাহারা দিত। বাড়ীর লোক ছাড়া কাউকে বাড়ীতে ঢুকতে দেয়া হত না। বঙ্গবন্ধুর দাফনের চারদিনের দিন বাড়ীর মসজিদে মিলাদ পড়তে দেয়া হয়নি, পুলিশ বাঁধা দেয়। কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধুর গৃহে একজন মৌলভী ডেকে মিলাদ পড়ানো হয়েছিল। টুঙ্গিপাড়ার অন্যান্য মসজিদে মিলাদের ব্যবস্থা হয়েছিল।
#নোটঃ মৌলভী শেখ আব্দুল হালিম স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তিনিই বঙ্গবন্ধুর লাশ নিজ চোখে দেখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন এবং তার সাহসিকতা ও প্রচেষ্টায় লাশের গোসল সুসম্পন্ন হয়েছিল।
যে নেতার জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হত না, যিনি জীবনের ১৩ টা বছর জেলখানার সেলে কাটিয়েছেন জাতির অধিকার আদায় করতে, সেই জাতির পিতাকে গোসল করানো হয় পুকুরের নোংরা পানি আর কাপড় কাঁচার সাবান দিয়ে। ভালো কাপড় না থাকায় শেখ মুজিবেরই দান করা রিলিফের কাপড় থেকে এক খন্ড কাফনের কাপড় জুটল শেখ মুজিবের কপালে। ৭ কোটি মানুষকে মাথা তুলে বাঁচতে শিখান যিনি, ইয়াসির আরাফাত, ফিদেল ক্যাস্ট্রোরা যাকে নিজেদের অনুপ্রেরনা মানত, সেই মানুষটার জানাজা পড়ল মাত্র ১৬-১৭ জন। এলো না কোন বিশ্বনেতা!
পরের দিন লন্ডনের বিখ্যাত দা ডেইলি টেলিগ্রাম পত্রিকায় একটি বিশ্রি সত্য শিরোনামে এলো,"এই করুন মৃত্যুই যদি মুজিবের ভাগ্যে ছিল তাহলে বাংলাদেশ সৃষ্টির কোনো প্রয়োজন ছিলনা।"
ফিরে যাই ১৯৭২ এঃ-
বাংলার মেয়েরা হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতন ধর্ষণের পর ঘরে ফিরে পেল মানসিক নির্যাতন। বাপ মেয়েকে ঘরে নিতে অস্বীকার করল,স্বামী বউকে তালাক দিল। সমাজ তাদের বয়কট করল। অপমানে লজ্জায় গাছের ডালে ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করল বাংলার বীরাঙ্গনারা। কার জন্য ইজ্জত গেল কার জন্য নির্যাতন সহ্য করলাম।
সে খবর গেল ধানমন্ডি ৩২ এ শেখ মুজিবের কানে। বুক চাপড়ে কেঁদে কেঁদে বললেন মুজিব,
“কেউ যদি বীরাঙ্গনাদের পিতার নাম জিজ্ঞেস করে তবে বলে দিও তাদের পিতা “শেখ মুজিবর রহমান” আর তাদের ঠিকানা স্থানে লিখে দিও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর।”
সেই কালো ফ্রেমের চশমা পড়া হিমালয় কে চিনে নিও প্রজন্ম। তোমাকে লীগ করতে হবে না, দল করতে হবেনা, তোমাকে ৭১ করতে হবে। তোমাকে মুজিবে এসে থামতে হবে।
বঙ্গবন্ধু শুধুই বাংলাদেশের।
বঙ্গবন্ধু তোমার আমাদের সবার
।।
কালেক্টেড

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা? Detailed description of the murder of Sheikh Mujibur Rahman

বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা?

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকেসহ সপরিবারে হত্যার একটি ঘটনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিপদগামী দল শেখ মুজিবের ধানমন্ডি ৩২-এর বাসভবনে অভ্যুত্থান সংঘটিত করে তাঁকে হত্যা করে। পরে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমেদ অঘোষিতভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
#পটভূমি
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মুজিবকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। তিনি পাকিস্তান থেকে ইংল্যান্ডের লন্ডন ও ভারতে গমন করেন। সেসময় বাংলাদেশ ভারতের অধিকারে ও নিয়ন্ত্রণে থাকে। দেশে ফেরার পর মুজিবকে প্রথমে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি অবিলম্বে সকল রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করে জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালে অপ্রশমিত রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার কারণে একটি সাংবিধানিক সংশোধনীবলে বাহ্যত বিরোধী ছাড়া মুজিব রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হন। বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠনের মাধ্যমে তাঁর এক দলের শাসনের ঘোষণার সাথে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী ও সকল রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করে। মুজিবের একনায়কতন্ত্র ব্যাপক প্রহরতা ও বিচার বিভাগের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত হয়। তেজস্বী দুর্নীতি এবং খাদ্য সরবরাহে ত্রুটি ও খাদ্যাভাবের ফলে সর্বনাশা দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হলে দেশ বিশৃঙ্খলায় পতিত হয়। জাতীয়করণ কোনো বাস্তব অগ্রগতি সাধনে ব্যর্থ হয়। লরেন্স লিফশুলজ তাঁর "ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ" বইয়ে লিখেনযে বাংলাদেশীদের দুর্নীতি, অপকর্ম এবং জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনের চিন্তা নজিরবিহীন ছিল।
জাতীয় রক্ষীবাহিনী ছিল ১৯৭২ সালে গঠিত একটি অত্যন্ত বিতর্কিত রাজনৈতিক মিলিশিয়া বাহিনী যা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অনুগত ছিল। এটি বেসামরিক জনগণের কাছ থেকে অস্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গঠিত হলেও প্রকৃতপক্ষে মুজিবের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতে কাজ করে। জাতীয় রক্ষীবাহিনী সেনাবাহিনীর মধ্যে অসন্তোষও মুজিবুরের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
#বামপন্থী শক্তির উত্থান
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে উদীয়মান বামপন্থী শক্তি মুজিব হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অনেকটা দায়ী। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে বিভক্ত হয়ে একটি অংশ নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠিত হয়।
কর্নেল আবু তাহের ও হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদের সশস্ত্র শাখা, গণবাহিনী সরকারের সমর্থক, আওয়ামী লীগের সদস্য ও পুলিশদের হত্যার মাধ্যমে অভ্যূত্থানে লিপ্ত হয়।এর ফলে দেশের আইন শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙ্গন ধরে এবং মুজিব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেয়।
#চক্রান্তকারীগণ
কর্নেল (সেই সময়ে মেজর) সৈয়দ ফারুক রহমান, খন্দকার আবদুর রশীদ, শরীফুল হক (ডালিম), মহিউদ্দিন আহমেদ, এ.কে.এম মহিউদ্দিন আহমেদ, বজলুল হুদা এবং এস.এইচ.এম.বি নূর চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মেজর ছিলেন। বিদেশি গোয়েন্দাদের থেকে ইঙ্গিত পেয়ে তাঁরা সরকারকে উৎখাত করে নিজেদের সামরিক সরকারের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে। মুজিবের মন্ত্রিপরিষদের আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণে সম্মত হন। তবে মোশতাক ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি চক্রান্তে জড়িত ছিল বলে সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ দাবি করেন।কথিত আছে, তৎকালীন সেনাপ্রধান কে এম শফিউল্লাহ, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স এবং এয়ার ভাইস মার্শাল আমিনুল ইসলাম খান মুজিব হত্যার চক্রান্ত সম্পর্কে অবহিত ছিলেন।
#ঘটনাপ্রবাহ
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে ষড়যন্ত্রকারীরা চারটি দলে বিভক্ত হয়। এদের একদল ছিল মেজর হুদার অধীনে বেঙ্গল লেন্সারের ফার্স্ট আর্মড ডিভিশন ও ৫৩৫ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা যারা মুজিবের বাসভবন আক্রমণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ও ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানরত আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদদাতা সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত তাঁর "মিডনাইট ম্যাসাকার ইন ঢাকা" বইয়ে লিখেন যে, মুজিব হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বর্ণনা সবসময় রহস্যে ঘনীভূত থাকবে। তিনি আরও লিখেন যে, মুজিবের বাসভবনের রক্ষায় নিয়োজিত আর্মি প্লাটুন প্রতিরোধের কোনো চেষ্টা করে না। মুজিবের পুত্র, শেখ কামালকে নিচতলার অভ্যর্থনা এলাকায় গুলি করা হয়। মুজিবকে পদত্যাগ করা ও তাঁকে এ বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য বলা হয়। মুজিব সামরিক বাহিনীর প্রধান, কর্নেল জামিলকে টেলিফোন করে সাহায্য চান। জামিল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সৈন্যদের সেনানিবাসে ফিরে যাওয়ার জন্য আদেশ দিলে তাঁকে সেখানে গুলি করে মারা হয়। মুজিবকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মুজিবের স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব (উপরের তলায় হত্যা করা হয়), মুজিবের ছোট ভাই শেখ নাসের, দুইজন চাকর (শৌচাগারে হত্যা করা হয়); শেখ জামাল, ১০ বছর বয়সী শেখ রাসেল এবং মুজিবের দুই পুত্রবধুকে হত্যা করা হয়।সেসময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। তাঁরা ভারত সরকারের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে ভারতে চলে আসেন। তিনি নির্বাসিত অবস্থায় দিল্লীতে বসবাস করতে থাকেন। তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন করেন।
দুটি সৈনিক দল মুজিবের ভাগ্নে ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শেখ ফজলুল হককে(মনি)তাঁর অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রীর সাথে ১৩/১, ধানমন্ডিতে এবং মুজিবের ভগ্নিপতি ও সরকারের একজন মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতকে তাঁর পরিবারের ১৩ জন সদস্যসহ মিন্টু রোডে হত্যা করে।
চতুর্থ এবং সবচেয়ে শক্তিশালী দলটিকে সাভারে সংস্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত প্রত্যাশিত বিরোধী আক্রমণ ঠেকানোর জন্য পাঠানো হয়। একটি সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর এগারজনের মৃত্যু হলে সরকারের অনুগতরা আত্মসমর্পণ করে।
আওয়ামী লীগের চারজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী, সাবেক উপ-রাষ্টপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামএবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আ হ ম কামারুজ্জামানকে আটক করা হয়। তিন মাস পরে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বরে তাঁদের সকলকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে অনাক্রম্যতা বা শাস্তি এড়াবার ব্যবস্থা প্রদানের জন্য বাংলাদেশে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এ ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করেন। ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই বাংলাদেশ সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর পর সংশোধিত আইনে এ আইনটি বাংলাদেশ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সংবিধানের ৫ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ হাইকোর্ট।
#হত্যাকাণ্ডের বিচার
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বা ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার এবং ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল তৃতীয় বিচারক মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২৫ দিন শুনানীর পর অভিযুক্ত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করেন৷
১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বাদী-বিবাদীর আপিলের প্রেক্ষিতে চার দফায় রায় প্রকাশ হয়, সর্বশেষ আপিল বিভাগ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর থেকে টানা ২৯ কর্মদিবস শুনানি করার পর ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এরই মাধ্যমে ১৩ বছর ধরে চলা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।
#রায় কার্যকর
২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয় তারা হলেন-
লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর বজলুল হুদা, লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারি) ও লে. কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার)।
এছাড়ও এখনো ১২ জনের মধ্যে ছয়জন বিদেশে পালিয়ে রয়েছে। পলাতকরা হলেন কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরী, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন, লে. কর্নেল এসএইচ নূর চৌধুরী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল মাজেদ।
॥॥॥
সূত্র : উইকি পিডিয়া 
সংগ্রহ : ফারুক হোসেন

শেখ মুজিবুর রহমান

★শেখ মুজিবুর রহমান★
,
> শেখ মুজিবের বাবার নাম-শেখ লুতফর রহমান।
> শেখ মুজিবের মায়ের নাম-সায়েরা খাতুন।
> শেখ মুজিবের জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্ম দিনকে শিশু দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন ড, নীলিমা ইব্রাহিম।
> শেখ মুজিবের চার বোন দুই ভাই ছিলেন।
> শেখ মুজিব ভাই বোন দের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন।
> শেখ মুজিবের ডাক নাম খোকা।
> শেখ মুজিবের উচ্চতা ছিল ৫ ফিট ১১ ইঞ্চি।
> শেখ মুজিব বেরি বেরি রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
> ১৬ জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে শের-ই-বাংলার গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদরশনের সময় সাক্ষাত হয়।
> ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বন্দি হন।
> ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিব জেলে ছিলেন। জেলখানা থেকে বিবৃতি প্রদান করেন।
> ১৯৬৪ সালের ১১ মার্চ শেখ মুজিবের নেতৃতে সর্ব দলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
> ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির লেখকের নাম কী?
উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
> বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম কত সালে, কোথায়?
উত্তর: ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।
> বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় কোন স্কুলে?
উত্তর: গোপালগঞ্জের গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
> বঙ্গবন্ধু ম্যাট্রিক পাশ করেন কোন স্কুল থেকে, কত সালে?
উত্তর: গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে, ১৯৪২ সালে।
> বঙ্গবন্ধু কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের বেকার হোষ্টেলের কত নম্বর কক্ষে থাকতেন?
উত্তর: ২৪ নম্বর কক্ষে।
> বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন কীভাবে?
উত্তর: ১৯৪৪ সালে কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে।
> বঙ্গবন্ধু কত সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারী নিযুক্ত হন?
উত্তর: ১৯৪৬ সালে।
> বঙ্গবন্ধু বিএ পাশ করেন কত সালে, কোন কলেজ থেকে?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে।
> বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিভাগের ছাত্র ছিলেন?
উত্তর: আইন বিভাগের।
> বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত সালে কেন বহিস্কৃত হন?
উত্তর: ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করায় তাঁকে বহিস্কার করা হয়।
> বঙ্গবন্ধু জীবনে প্রথম কারাভোগ করেন কত সালে?
উত্তর: ১৯৩৯ সালে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভা করার কারণে তাঁকে কারভোগ করতে হয়।
> ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে কী পদ পান?
উত্তর: যুগ্ম সম্পাদক।
> ১৯৫২ সালের কত তারিখে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন?
উত্তর: ১৪ ফেব্রুয়ারি।
> যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কোন আসনে বিজয়ী হন?
উত্তর: গোপালগঞ্জ আসনে।
> বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রীসভায় সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন?
উত্তর: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভায়।
> ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধী দল গঠন করা হয়। দলটির নাম কী?
উত্তর: কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি।
> বঙ্গবন্ধু মুজিব ছয়দফা ১ম কবে ঘোষনা করেন?
উত্তর: ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬
> আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত হয় কত সালে?
উত্তর: ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ।
> বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আনুষ্ঠানিকভাবে কবে ছয়দফা ঘোষনা করেন?
উত্তর: ২৩ মার্চ ১৯৬৬
> কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে ছয়দফা রচিত হয়?
উত্তর: লাহোর প্রস্তাব
> ছয়দফার প্রথম দফা কি ছিল?
উত্তর: স্বায়ত্বশাসন
> ‘বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ’ হিসেবে পরিচিত কোনটি?
উত্তর: ছয় দফা।
> আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী ছিল কত জন? বঙ্গবন্ধু কততম আসামী ছিলেন?
উত্তর: ৩৫ জন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন ১ নং আসামী।
> আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কী নামে দায়ের করা হয়েছিল?
উত্তর: রাষ্ট্রদ্রোহীতা বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য।
> শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় কত সালে?
উত্তর: ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি।
> শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি কে দেন?
উত্তর: তৎকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ।
> কোথায় ‘বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়?
উত্তর: রেসকোর্স ময়দানে।
> বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলাকে ‘বাংলাদেশ’ নামকরন করেন কত সালে?
উত্তর: ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ ।
> বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণ কোথায় দেন?
উত্তর: ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দি উদ্যোন নামে পরিচিতি।
> বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের মূল বক্তব্য কী ছিল?
উত্তর: এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
> বঙ্গবন্ধু কখন স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাত অর্থাৎ ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপরই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে।
> ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত অস্থায়ী সরকারের বঙ্গবন্ধুর পদ কী ছিল?
উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদ ছিল রাষ্ট্রপতি।
> বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান কবে?
উত্তর: ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি।
> বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরেন কবে?
উত্তর: ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, যা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নামে পরিচিত।
> বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।
> বঙ্গবন্ধু প্রথম নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন কত সালে, কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর।
> বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হন কত তারিখে?
উত্তর: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট।
> বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর: শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব।
> বঙ্গবন্ধুর ছেলে–মেয়ে কত জন? তাদের নাম কী?
উত্তর: ৫ জন। তিন ছেলে দুই মেয়ে। শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ রেহানা, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল
> বঙ্গবন্ধু জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে।
> শেখ মুজিব ১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কারাগারে অনশন শুরু করেন।
> শেখ মুজিব ১৯৫৩ সালের ১৬ নভেম্বর আওয়ামী মুস্লিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।
> শেখ মুজিব ১৯৫৪ সালে ১০ মার্চ সাধারন নিরবাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ টি আসন লাভ করে।
> শেখ মুজিব ১৯৫৪ সালের ২ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করা হয়।
> শেখ মুজিব ১৯৫৪ সালের ১৪ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারের কনিষ্ঠ মন্ত্রি হিসেবে যোগদান করেন।
> শেখ মুজিব ১৯৫৫ সালের ৫ জুন পাকিস্তানের গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
> শেখ মুজিব ১৯৫৫ সালের ১৭ জুন পলতনের জন সভায় পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবী করেন।
> ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহন করে মুস্লিম শব্দটি প্রত্যাহার করে নতুন নামকরন করেন আওয়ামী লীগ।
> ১৯৬৪ সালের ১১ মার্চ শেখ মুজিব এর নেত্রিত্তে সর্ব দলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
> ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গ্রিহিত হয়।
> ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্তন ম্যান্তে সার্জেন্ট জহুরুল হক কে হত্যা করা হয়।
> ১৯৬৯ সালের ২৩ মার্চ শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু উপাধি দেওয়া হয়।
> ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ রাওয়াল পিণ্ডিতে গোল টেবিল আলোচনা ব্যর্থ হয়ার পর আইয়ুব ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হ্যান্ডঅভার করেন।
> ১৯৭১ সালে ২৭ জানুয়ারি জুলফিকার আলী কয়েক দফা আলোচনা করেন।
> ১৯৭১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইয়াহিয়া বেতার ভাষণে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের আহব্বান করেন।
> ১৯৭১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ মুজিবকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হয়।
> ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেন।
> শেখ মুজিব ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের সাধিনতা ঘোষণা করেন।
> ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
> শেখ মুজিবকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বন্দি করে পাকিস্তানে নিয়ে যান।
> ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে পিয়াইয়ের বিমানে করে লন্ডন-এ হিথরো বিমান বন্দরে অবতরন করেন যান। তখন ব্রিটেনের প্রধান মন্ত্রি ছিল উইলিয়াম অ্যাডওয়াড হিথ। ১০ জানুয়ারি ব্রিটেনের রাজকীয় কমেট বিমানে ভারতে আসেন। তখন ভারতের রাস্ত্রপতি ছিলেন ভিপি গিরি।
> ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
> ১০ জানুয়ারি রাতে ১৯৭২ রাস্ত্রপতির দায়িত্ত গ্রহন করেন।
> ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ সংসদীয় কাঠামো প্রবরতন করে মন্ত্রি পরিষদ গঠন করা হয়। শেখ মুজিব দেশের প্রধান্মন্ত্রি নিজুক্ত হন।
> ২৬ মার্চ ১৯৭২ শোষণহিন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়।
> ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়।
> ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদিত হয়।
> ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হয়।
> ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদ বাতিল করা হয়।
> নতুন সংবিধানের আলোকে ৭ মার্চ ১৯৭৩ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে ৩০০ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯২ টি আসন লাভ করে।
> ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ জাতিসঙ্গে বাংলায় প্রথম ভাষণ প্রদান করেন।
> ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।
> বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য ইতিহাস ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহরে ৬ দফা প্রস্তাব। কে এই প্রস্তাব লিখেন তা নিয়ে তিনটি মতবাদ আছে- এর একজন হল রুহুল কুদ্দুস, শামসুর রহমান খান, আহম্মেদ ফজলুর রহমান সি এস পি অফিসার এ টি লিখে ব্যাংকার খায়রুল কবিরের মাধ্যমে শেখ মুজিবের কাছে পৌঁছান হয়। আরও একটি মতবাদ হল আইয়ুব খানের বিশ্বস্ত আমলা আলতাব গওহর এ টি শেখ মুজিবের হাতে তুলে দেন।
> পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির নাম নওয়াব জাদা নসরুল্লাহ।
> ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল এ কে ফজলুল হক মারা যান। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহিদ সোহরাওয়ারদী মারা যান। দায়িত্ত চলে আসে শেখ মুজিবের উপর। শেখ মুজিব এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য পূর্ব বাংলাকে বাংলাদেশ নামকরন করেন।
> পাকিস্তানের ২৪ বছরের মধ্যে শেখ মুজিব ১২ বছর জেল খাটেন।
> ৬ দফা আন্দোলনকে মুছে ফেলার জন্যই ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে প্রধান আসামি করে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য নামে মামলা দায়ের করা হয়।
> ১৯৬৮ সালের ১৭ জানুয়ারি শেখ মুজিব মুক্তি পাওয়ার পর জেল গেইটে আবার আটক করা হয়।
> ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয় ঢাকা সেনানিবাসে।
> পাকিস্তান দণ্ড বিধির ১২১ (ক) এবং ১৩১ ধারায় শুনানি হয়।
> এই মামলার বিচার চলাকালিন সময়ে ২৬ জন কৌশলী ছিলেন। শেখ মুজিবের প্রধান কৌশলী ছিলেন আব্দুস সালাম খান। একটি সেশনের জন্য ব্রিটেন থেকে আসেন আইনজীবী টমাস উইলিয়াম। তাকে সাহায্য করেন তরুণ ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও মওদুদ আহমেদ।
> এই মামলার ১০০ টি অনুচ্চেদ ছিল। ১১ জন রাজ সাক্ষী ও ২২৭ জন সাক্ষীর তালিকা আদালতে পেশ করা হয়।
> এই মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্জুর কাদের, এম এর খান। বাঙালি ছিলেন মুকসুদুল করিম।
> এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ৪ জানুয়ারি ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এই পরিষদ ১১ দফা ও ৬ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনের ফলে জান্তা সরকার এই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবকে শর্তহীন মুক্তি দেন।