দেশভাগ নিয়ে আমাদের প্রচুর জ্ঞান দেয়া হয়।
![]() |
| Real Bangladesh |
বাংলা ভাগ না হয়ে অবিভক্ত থাকার মর্তবা শুনানো হয়।
লেখা, ডকুমেন্টারি, সিনেমা, গল্পগুলো পড়লে মনে হয় যে, বাংলা ভাগ হওয়াতে আমাদের অনেক দোষ আছে। দেখলে মনে হয়, আমরাই মূল অপরাধী।
অথচ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাসিমরা যখন ইউনাইটেড বেঙ্গল এর আইডিয়া আনেন, তখন সবচেয়ে বেশী বিরোধিতা করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী।
বিপ্লবী সুভাষ চন্দ্র বসুর ভাই শরৎচন্দ্র বসু ইউনাইটেড বেঙ্গল আইডিয়ার সমর্থক হওয়া স্বত্তেও কিছু করতে পারেননি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং তার অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার তীব্র বিরোধিতার কারণে।
বল্লবভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহেরু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীরা অবিভক্ত বাংলার পরিকল্পনা ঠেকিয়ে দেন। তাদের আশংকা ছিল- অবিভক্ত বাংলা হলে হিন্দুরা মুসলমান শাসনে অধীনে চলে যাবে।
বল্লভভাই প্যাটেল শুধু অর্ধেক বাংলা ভারতে নিতেই সক্ষম হননি, তিনি স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যে স্বাধীন হায়াদারাবাদ দখল করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। কাশ্মীর দখলে নেয়ার পরিকল্পনাও তার।
স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যে জুনাগড়ও দখল করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি।
বল্লবভাই প্যাটেল ভারতের সবচেয়ে সেলিব্রেটেড আইকন। ভারতের সবচেয়ে উঁচু স্ট্যাচু অব ইউনিটি তারই মূর্তি।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীও ভারতে প্রচণ্ড সেলিব্রেটেড।
এরা মুসলমান শাসনের ভয়ে বাংলাকে ভাগ করে ফেলে। অর্ধেক যায় পাকিস্তানে, অর্ধেক যায় ভারতে।
এতে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগেরও সমর্থন ছিল। আধা আধা তো পাচ্ছে।
অবশ্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীদের ধারণা ভুলও ছিল না।
আজকে পশ্চিমবঙ্গ আর পূর্ববঙ্গ মিলে একটা দেশ হলে, এর জনসংখ্যা হতো ২৭-২৮ কোটি।
এই দেশের জনসংখ্যার ৬৭-৬৮% হতো মুসলমান, ৩১-৩২% হতো হিন্দু।
ফলে এই অবিভক্ত বাংলা হতো একটা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আশংকা সত্যই হতো।
কিন্তু দেখেন- বাংলা ভাগ করার জন্য আফসোস করে তারা, আর দোষ চাপানো হয় আমাদের ঘাড়ে।
অথচ আফসোস করার কথা আমাদের।
আপনারা আফসোস করেন, সমস্যা নাই।
কিন্তু বাংলা ভাগের দোষটা আমাদের ঘাড়ে চাপাবেন না।
আমরা শ্যামাপোকাদের সেলিব্রেট করিনা।
